
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—শিরোপা ধরে রাখা। এই লক্ষ্য নিয়ে ঘরের মাঠে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রোটিয়ারা। আসন্ন এই ব্যস্ত সূচিতে অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজও রয়েছে। সিরিজ শুরুর বেশ আগে থেকেই বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট, বিশেষ করে পেস আক্রমণ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।
বাভুমার মতে, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামদের নেতৃত্বাধীন বোলিং আক্রমণ তাদের বেশ চাপে ফেলতে পারে। বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের প্রশংসা করে প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, 'বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ভালো এবং তারা অবশ্যই আমাদের চাপে রাখবে।'
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রের অংশ। এর আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে তারা, যা ৯ অক্টোবর ডারবানের কিংসমিডে শুরু হবে। এরপর সেন্ট জর্জেস পার্ক ও কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে বাকি দুই টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। অস্ট্রেলিয়া পর্ব শেষ করেই তারা বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে। সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে এবং দ্বিতীয়টি সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা।
বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে বাভুমার সতর্ক হওয়ার পেছনে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রভাব রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের ফলের দিকেও নজর রেখেছেন। বাভুমা বলেন, 'আমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখেছি, যেখানে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেছে। তবে আমি আশা করি, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখাবে।'
গত জুনে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। এ প্রসঙ্গে বাভুমা জানান, 'আমাদের ওপর টার্গেট আছে—এভাবে বললে যদি বলা যায়। এখন যারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে, তারা বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করতে চাইবে। যদি কোনো চাপ থাকে, সেটা হলো সেই চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং তা সামলে নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারা।'
শিরোপা জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা এখন শিকারি থেকে শিকারে পরিণত হয়েছে। নভেম্বরে যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামলানোর পাশাপাশি নাহিদ ও শরীফুলদের সামলানোও বাভুমার দলের জন্য বড় পরীক্ষার বিষয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :