
চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার নেপালকে পুনর্গঠন করতে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সম্ভাব্য ব্যয় নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান। তবে এটি বর্তমানে একটি প্রাথমিক অনুমান মাত্র এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল, এবারের পুনর্গঠনে তার চেয়ে কিছুটা কম অর্থ লাগতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়, যার আর্থিক ক্ষতি ছিল দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সে সময় পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। তবে এবার কেন তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে পাথর, বরফ ও কাদামিশ্রিত প্রবল স্রোত নদীর পানি বাড়িয়ে দেয়, যা নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে বিপর্যয় বয়ে আনে। এই ঘটনায় ৬০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি জোগান দেয় এমন কিছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অবকাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা নেপাল সরকারের জন্য এখন অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :