Facebook Twitter Instagram YouTube

ডিসেম্বরকে ঘিরে নাশকতার ছক, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ /
ডিসেম্বরকে ঘিরে নাশকতার ছক, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে এবং কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ভারতে অবস্থানরত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানের ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ সংবলিত একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা এসব প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যের পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশে পলাতক ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম, নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু ও মহিউদ্দিন মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিল গঠনেরও চেষ্টা করছেন। পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে থাকা কিছু আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা বিদেশে পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে তথ্য রয়েছে।

নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে এবং নজর এড়াতে নেতাকর্মীরা রাইড শেয়ারিং, বিউটি পার্লার, মোটরসাইকেল শোরুম কিংবা অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল অনলাইন পোর্টাল পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনার মতো পেশা বেছে নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল, বোমাসদৃশ বস্তু এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা গোয়েন্দাদের কাছে নাশকতার অগ্রিম বার্তা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor