Facebook Twitter Instagram YouTube

রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলা: ফের যুক্তিতর্ক শুনবে আদালত


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ /
রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলা: ফের যুক্তিতর্ক শুনবে আদালত

সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও আদালত পুনরায় যুক্তিতর্ক শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিন মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল। এর আগে গত ১৬ আগস্ট রায় দেওয়ার তারিখ থাকলেও তা পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছিল।

দুদকের কৌঁসুলি ইসতিয়াক আহমেদ জানান, কিছু বিষয় আরও স্পষ্ট করার লক্ষ্যে বিচারক মামলাটি রায় থেকে উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য রেখেছেন। যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পরেই আদালত রায় ঘোষণা করবেন।

এই মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ভবন মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্লানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল মোত্তালিব। আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন, তবে রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। রোববার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং অন্য আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক চাপা পড়েন, যার মধ্যে ১ হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পাঁচদিন পর সোহেল রানাকে যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরে অধিকতর তদন্তে সোহেল রানাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৬ সালে সাভার পৌরসভা ভবনটি ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদন দেয়। পরে ২০০৮ সালে নথির তথ্য গোপন করে দশ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয় এবং শপিং কমপ্লেক্সের পরিবর্তে পাঁচটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সোহেল রানার বিরুদ্ধে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন ছাড়াও হত্যার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin