
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম। মানব পাচার, অতিরিক্ত ব্যাগেজের নামে অনিয়ম এবং সরকারি ফি ও রসিদ ছাড়া লাগেজ পার করার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহজাহানকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দেওয়া স্ট্যান্ড রিলিজ ও মুভমেন্ট অর্ডার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই বাতিল করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। কোনো ধরনের স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনায় বিমানের সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফারহানা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে (স্মারক নং-৩০.৩৪.০০০০.০১৯.১৪.০০৫.২৬) জানানো হয়েছে যে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহজাহানের (পি-৩৬৪৮৯) বুধবার ইস্যুকৃত রিলিজ অর্ডার বাতিল করা হলো। বুধবার তাকে রিলিজের আদেশ দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবারই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে জানান, এটি বিমানের একটি প্রশাসনিক বিষয়। বিমানের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাকে আপাতত সেখানেই রাখা প্রয়োজন মনে করেছে, যার ফলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ বাতিল করে পুনর্বহাল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাব কাজ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শাহজাহান ও তার স্ত্রী শামিমা পারভীন একই স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়েও বিমানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এর আগে স্টেশনের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঝটিকা তদন্তে ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনের অতিরিক্ত ব্যাগেজ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও মূল হোতাদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই তদন্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :