Facebook Twitter Instagram YouTube

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ / ০ Views
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের আলোচিত ও সমালোচিত ১৮(ক) ধারাটি বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ধারাটি বাতিলের লক্ষ্যে সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে পেশ করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ধারা ১৮(ক) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় আসার আগে যাঁরা শেয়ারধারী ছিলেন, তাঁরা চাইলে পরবর্তীতে সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার যে ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তাতে ১৮(ক) ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন করে সেখানে এই ধারাটি যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল, যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এখন ধারাটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর উক্ত ধারার শর্ত পরিপালন করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। তাই ধারাটি বিলুপ্ত করা সমীচীন। উল্লেখ্য, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংক নিয়ে গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।

এদিকে, একই অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধনী আনতে একটি বেসরকারি বিল উত্থাপনের অনুমতি চেয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও নাজিবুর রহমান তাতে সম্মত হননি। পরে বিষয়টি ভোটের মুখোমুখি হলে ‘না’ ভোট জয়ী হওয়ায় বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo