
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত গাড়ির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং গাড়িটির বিরুদ্ধে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইল এলাকায়। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ জানান, মন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি লেন লঙ্ঘন করে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। এরপর সচিবালয়ের সামনে গাড়িটি আটকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মামলাগুলো করা হয়। সার্জেন্ট সিফাত জানান, মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হওয়া একটি বিরল ঘটনা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আইন লঙ্ঘনের সময় মন্ত্রী গাড়িতেই ছিলেন।
ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ও ৯২ ধারায় দুটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলার বিপরীতে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অনিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সার্জেন্ট সিফাত জানান, মামলাটি গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে করা হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় চালকের, তাই জরিমানা চালককেই পরিশোধ করতে হবে।
সড়ক পরিবহন আইনের ৮৭ ধারা অনুযায়ী ৪৪ ধারার বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যার সাথে দোষসূচক পয়েন্ট কাটার বিষয়টিও যুক্ত। এছাড়া ৯২ ধারায় ৪৯ ধারার সাধারণ নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে সমপরিমাণ শাস্তির বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানার জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে এই ধারায় শুধু গতিসীমা লঙ্ঘনের বিষয় নেই।আইনের ৪৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো চালক নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে অথবা বেপরোয়াভাবে মোটরযান চালাতে পারবেন না।আর ৪৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো চালক সড়ক বা মহাসড়কে বিপজ্জনক বা অননুমোদিতভাবে ওভারটেকিং করতে পারবেন না এবং মোটরযান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না।এই ৪৪
চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে একটি দোষসূচক পয়েন্টও কাটা যেতে পারে।.মন্ত্রীর গাড়ির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগের সঙ্গে ৪৪(৩) ধারার বিধানের সম্পর্ক রয়েছে।অন্য মামলাটি হয়েছে আইনের ৯২ ধারায়।
আপনার মতামত লিখুন :