
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্ট করেছে যে, শুধুমাত্র আয় প্রাক্কলনের ভিত্তিতে কোনো করদাতার ওপর কর ফাঁকির অভিযোগে জরিমানা আরোপ করা যাবে না। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জরিমানা আরোপের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট করদাতার আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয় গোপন অথবা অসত্যভাবে প্রদর্শনের গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ থাকতে হবে।
নতুন এই আদেশে জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে করদাতার শুনানি গ্রহণ অথবা শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়কর আইনের অংশ-১৯ অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো উপ-কর কমিশনার যদি মনে করেন যে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৭২ ধারা অনুযায়ী জরিমানা আরোপের প্রযোজ্যতা রয়েছে, তবে তাকে প্রথমে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রায় বা করাদেশ দিতে হবে। যদি জরিমানার প্রযোজ্যতা না থাকে, তবে কোনো জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
নির্দেশনায় বিভিন্ন আয়ের খাতের ক্ষেত্রে ২৭২ ধারা প্রয়োগের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরি, বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা বা পেশা, মূলধনী আয় এবং আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়। এসব ক্ষেত্রে কর ফাঁকি প্রমাণিত হলে জরিমানা করা যাবে, তবে শুধুমাত্র কর কর্তৃপক্ষের আয় প্রাক্কলনের ভিত্তিতে তা করা যাবে না। বিশেষ করে, ভাড়া থেকে আয়ের ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তির যৌক্তিক ভাড়ামূল্য প্রাক্কলন জরিমানা আরোপের একক ভিত্তি হতে পারবে না। ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের’ ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, যদি কোনো করদাতা আয় গোপন না করে করযোগ্য আয়কে করমুক্ত হিসেবে প্রদর্শন করেন বা আইনগত বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হন, তবে শুধু এসব কারণে ২৭২ ধারা অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা যাবে না। এছাড়া, আয়কর আইনের ৬৭ ধারার উপধারা (৩) প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত সাপেক্ষে জরিমানা আরোপের সুযোগ থাকলেও, সেখানেও গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্দেশনার ফলে কর প্রশাসনে জবাবদিহি ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
আপনার মতামত লিখুন :