
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার রাজাবাদ গ্রামে চলাচলের একটি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী শ্রমিক লীগ নেতার নেতৃত্বে একদল লাঠিয়াল বৃহস্পতিবার ভোরে এই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। ভুক্তভোগী আব্দুল মোমেন দিলীপের অভিযোগ, মরহুম আব্দুল মতিন মাস্টারের বাড়ির চলাচলের একমাত্র এই রাস্তাটি বন্ধ করায় ওই পরিবারের সদস্যরা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বাড়ির ৪-৫ জন শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক আব্দুল মতিন মাস্টার ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন এবং নিজের অর্থে বাড়ির পূর্ব দিকের রাস্তাটি মেরামত করে ব্যবহার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ৪-৫ বছর আগে শ্রমিক লীগের উপজেলা সভাপতি মাজহারুল ইসলাম অপু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রাস্তাটি নিজের বলে দাবি করেন। তৎকালীন সময়ে দেড় শতক ভূমি আব্দুল মতিন মাস্টারের ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার শর্তে তিন লক্ষ টাকার চুক্তি হয় এবং অপু অগ্রিম দেড় লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। তবে জমির রেকর্ড ভুলবশত অপুর পিতার নামে থাকায় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে মাজহারুল ইসলাম অপু এবং তার লন্ডন প্রবাসী ভাই তাজুল ইসলাম নিঠুরের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তার ওপর টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও রাস্তা থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনায় আব্দুল মোমেন দিলীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল মোমেন দিলীপ জানান, টাকা নিয়েও জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে এখন লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয়রা উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং ফিরে এসে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, পৌরসভার রাজাবাদ গ্রামের প্রাইমারি শিক্ষক আব্দুল মতিন মাস্টার (অব.) প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের ভূমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন এবং বাড়ির পূর্ব দিকে একমাত্র রাস্তা নিজস্ব অর্থে মেরামত করে চলাচল করে আসছেন। প্রায় ৪/৫ বছর পূর্বে একই গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী শ্রমিক লীগের উপজেলা সভাপতি দলীয় প্রভাব
কিন্তু উক্ত ভূমির এস এ মালিক হাছন উল্লাগং। ভুল বশত বিবাদী মাজহারুল ইসলাম অপুর পিতা আব্দুল হাসিমের নামে আর এস রেকর্ড হওয়ায় তারা রেজিস্ট্রারি দিতে ব্যর্থ হয়। প্রায় ৭/৮ মাস পূর্বে উক্ত রাস্তা মাটি দিয়ে মেরামত করে প্রবাসী আব্দুল মোনায়েম দুলন। এ সময় অপুগংরা কোন প্রকার বাধা নিষেধ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন :