
চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। এটি গত এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বিতীয় টাইফুন। এই ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে এর গতিপথে থাকা এলাকাগুলো থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে প্রথম আঘাত হানে টাইফুন বাভি। এরপর মধ্যরাতের দিকে এটি দ্বিতীয়বার ওয়েনঝৌ শহরের ওপর দিয়ে মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি এর সবচেয়ে চওড়া অংশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বা ৬২০ মাইল বিস্তৃত, যা আয়তনে প্রায় পুরো ফ্রান্সের সমান।
চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুনটি ফিলিপাইনে ব্যাপক ভূমিধস সৃষ্টি করে, যাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানে ঝড়টি। সেখানে পাঁচজন আহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে যাওয়ার সময় ভারী বৃষ্টির কারণে সেখানেও হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান।
বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে ‘তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে’ পরিণত হলেও এর বিপদ এখনো কাটেনি। এর মেঘমালায় বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকায় চীনের পূর্ব ঝেজিয়াং এবং উত্তর-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে ‘ব্যতিক্রমী রকমের ভারী বৃষ্টিপাত’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। চীনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষ রয়েছে। এছাড়া বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে ১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস-আদালত এবং সব আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০০টি ফ্লাইট এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর তাণ্ডবে দক্ষিণ চীনের একাংশ এখনো লণ্ডভণ্ড। মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু মারা যাওয়ায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বাভির এই জোড়া আঘাত উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :