Facebook Twitter Instagram YouTube

সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার


প্রকাশের সময় : জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ /
সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দাফন করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে রোববার বাদ আসর সংসদ ভবনের টানেলে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়, যেখানে দেশের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিক শায়িত আছেন।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং জমির উদ্দিন সরকারের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশের একজন কৃতি সন্তান ও অমায়িক মানুষ হিসেবে অভিহিত করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জমির উদ্দিন সরকার আজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে হারাল।

উল্লেখ্য, এর আগে রোববার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে জমির উদ্দিন সরকার মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী জমির উদ্দিন সরকার ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘ সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইনজীবী হিসেবে সংবিধান ও আইনের বিভিন্ন শাখায় খ্যাতি অর্জনকারী জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি কয়েক মাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়াও তিনি গণপূর্ত, নগর উন্নয়ন, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।