
সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার আগে কেউ পদত্যাগ করলে তিনি কোনো পেনশন সুবিধা পাবেন না বলে আপিল বিভাগের এক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের লেখা পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। এর আগে, হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতেই এমন বিধান করেছে যে, ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সার্ভিসের ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তিনি তার ১৯ বছরের চাকরিকাল অনুযায়ী ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুরের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়, যা পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য নয় (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। এছাড়া ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী, ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় এবং সেই শর্তে আবেদন না করায় তিনি পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন।
এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে মাহবুব মোরশেদ রিট দায়ের করেন। ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট রায় প্রদান করে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের চিঠিটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে তার পেনশন সুবিধা গণনা ও মঞ্জুরের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। চূড়ান্ত শুনানির পর গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :