
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার কাজ পরিচালনার সময় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেনের (শুভ) মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ারঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ আট ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেকজন ডুবুরি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত সাদিক হোসেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন এবং নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে গত ১৯ মে তাঁকে ‘প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক’ দেওয়া হয়েছিল।
সাদিকের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। ছেলের সাহসিকতার রাষ্ট্রীয় পদকটি হাতে নিয়ে বিলাপ করছেন মা লিলি বেগম। তিনি জানান, দুই বছর আগে সাদিয়া খাতুন নামের এক তরুণীর সঙ্গে সাদিকের বিয়ে হয়েছিল। লিলি বেগম বলেন, ঘটনার তিন দিন আগেও ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তখন সাদিক আগামী রোববার বাড়ি আসার কথা জানিয়েছিল এবং বাবার কাছে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেছিল। সাদিক একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি হওয়ায় পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে মা লিলি বেগম সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
প্রতিবেশী ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক সাদিকের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সাদিক পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারের কাছে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে সাদিকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ গোয়ালন্দে নেওয়া হয় এবং বিকেলে কুমড়াকান্দি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :