
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ গবেষণা অনুদান ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (এনএইচএমআরসি) ইনভেস্টিগেটর গ্র্যান্ট’ (ইমার্জিং লিডারশিপ লেভেল-২) অর্জন করেছেন চাঁদপুরের কৃতি গবেষক ড. আবু আলী সিনা। প্রায় ১৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের এই অনুদানটি তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘সিনা ল্যাব’-এর ক্যান্সার শনাক্তকরণ বিষয়ক গবেষণায় ব্যয় করা হবে।
এনএইচএমআরসি সম্প্রতি এই অনুদানের ফলাফল ঘোষণা করে। গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান, শক্তিশালী গবেষণা-নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্বাচিত গবেষকদের এই সম্মানজনক অর্থায়ন প্রদান করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা ড. আবু আলী সিনার বাবা শহীদুল্লা মাষ্টার এবং মা সুরাইয়া বেগম। তিনি স্ত্রী সাবিহা সুলতানা ও ছেলে জাবির ইবনে হাইয়্যানকে নিয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসবাস করছেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে, যেখানে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমান। পিএইচডি গবেষণার সময় থেকেই তিনি ক্যান্সার নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ) সিডনিতে সিনা ল্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিনা ল্যাব জানিয়েছে, এই অনুদানের মাধ্যমে রক্তভিত্তিক নতুন প্রজন্মের বায়োমার্কার শনাক্ত, ন্যানো প্রযুক্তি নির্ভর ডায়াগনস্টিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন এবং ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা পরিচালিত হবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো ক্যান্সার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সহজলভ্য করা। ল্যাব কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই প্রাপ্তি গবেষণাগারের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, গবেষণা-সহযোগী ও মেন্টরদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বিশেষ করে সাবেক পিএইচডি গবেষক ড. তানভীর আহমেদের গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এই প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই স্বীকৃতি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ড. আবু আলী সিনা বলেন, এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, বরং আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, মেন্টর এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের সমর্থন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের গবেষকদের সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে তুলে ধরেছে এবং দেশের তরুণ গবেষকদের জন্য এটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :