
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ৪৩ দেশের সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, হুতিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রিয়াদের সঙ্গে কৌশলগত ও মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ঢাকা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল হজ বা ওমরার মতো ধর্মীয় বিষয়য়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যকার এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও কৌশলগত রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে সৌদি আরবের যেকোনো নিরাপত্তা সহায়তার আহ্বানে সাড়া দিতে প্রস্তুত। মূলত ওখানকার হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশ এই জোটে শামিল হয়েছে।
জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির জানান, হুতিদের প্রতিহত করতে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, নিজেদের সক্ষমতা ও সম্পদ অনুযায়ী বাংলাদেশ তা সরবরাহ করবে। তবে এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একই সাথে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ফলে একে ইরানের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের পরই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়, যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশ।
আপনার মতামত লিখুন :