
দেশের সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার এখন জনগণের মূল সমস্যাগুলো আড়াল করে সংবিধান ও বিরোধী দল দমনে নতুন ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে।
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গ্যাসের তীব্র সংকট, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনগণের পাশে থাকা রাজনৈতিক দল হিসেবে এসব জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং নিজেদের দাবি ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করে জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, এর ফলে আমদানিকৃত গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে একদিকে গ্যাসের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জনগণের ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। এই সংকটের কারণে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের কোনো কার্যকর বিনিয়োগ ছিল না এবং বর্তমান নতুন সরকারও এ খাতে কোনো বিনিয়োগ করছে না। এর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, আর মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছে। গ্যাসের সংকটে বহু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ভূতুড়ে বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সরকার এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে দুই দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের মাসিক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও লাগামহীনভাবে বাড়ছে।
সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ যেখানে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যস্ত, সেখানে সরকার সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কাজ এবং বিরোধী দলকে দমনের চেষ্টাই এখন সরকারের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, ভূতুড়ে বিল নিয়ন্ত্রণের একটা ব্যর্থতা এই সরকারের। যা ব্যয় ব্যবহার হয় না, সেরকম মাত্রারিক্ত ভূতুড়ে বিল মানুষের বাড়িতে আসছে। সমাধান করবে বলে কথা বলেছিল, কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের মাসিক ব্যয় আরও বেড়েছে। ২৪ থেকে ২৬ সালের
আপনার মতামত লিখুন :