
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে একটি রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার সকালে ঘটা এই বিস্ফোরণের পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আজ রাত আটটা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত হতে পারেনি ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক থেকে এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও তা শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন সিকদার জানান, বিকট শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শাহ আলম হাওলাদারের পরিবারের সদস্যদের দগ্ধ অবস্থায় কান্নাকাটি করতে দেখেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
দগ্ধদের মধ্যে একজন, ইতি আক্তার জানান, সকাল ছয়টার দিকে তিনি বাড়ির উঠানে ভাগনের ব্যায়াম করার সময় রশিতে বাঁধা চিপসের প্যাকেট ও শপিং ব্যাগ দেখতে পান। কৌতূহলবশত কাছে যাওয়ার সময় উঠান পিচ্ছিল থাকায় তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ইতি, তাঁর মা হনুফা বেগম এবং ভাগনে ফাহিম দগ্ধ হন। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বাড়ির পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন।
ঘটনার পর র্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি প্লাস্টিকের বোতল, লাল-কালো সুতা প্যাঁচানো টেপ এবং দুই থেকে চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের তার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত পরীক্ষা করার পরই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন জানান, দগ্ধদের শরীরে হিট বার্ন বা তাপজনিত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছেলেটির শরীরের প্রায় ১৫ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং বাকি দুজনের আঘাত তুলনামূলক কম। তাদের শরীরে কোনো স্প্লিন্টার পাওয়া যায়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হনুফা বেগম (৫৫), ইতি আক্তার (১৮) ও ফাহিমকে (১৫) সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মদ আহতদের পরিবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :