
সীতাকুণ্ড পৌরসভা কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে পৌর প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার administrator মো. ফখরুল ইসলামের ঝটিকা পরিদর্শনে বিষয়টি সামনে আসে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম আকস্মিকভাবে পৌরসভা কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। নির্ধারিত দাপ্তরিক সময়ে কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে না পেয়ে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি পুনরায় কার্যালয়ে এসে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চান এবং তাদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ দেন।
শোকজ পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন—পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবী, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফয়েজ আহমদ।
ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম জানান, কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে কার্যালয়ে ফিরতে দুপুর সাড়ে ১২টা বেজে যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে আসা প্রকৌশলীরাও দুপুরের দিকে কার্যালয়ে পৌঁছান। সকালে ইউএনও স্যার এসে আমাদের না পেয়ে পরে নোটিশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে পৌরসভার কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের নিয়মিত অনুপস্থিতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পৌর প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন সেবা, ভবনের নকশা অনুমোদন, রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পৌরসভায় এসে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
পৌর প্রশাসন জানিয়েছে, শোকজের জবাব পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও অন্যান্য নাগরিক সেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :