
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনবিরল প্রদেশ চোকোর সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ১০৭ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল রিসারালদা প্রদেশ। প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনিও জানিয়েছেন, সেখানে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ জন, চোকো প্রদেশে ৪ জন, মানিসালেস শহরে ৩ জন এবং অ্যানতিওকিয়া প্রদেশে ১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বোগোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ভবন ধসে ৮৭ জন আহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার সমন্বিত কমান্ড পোস্ট থেকে তিনি সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রও কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারা কম্পন টের পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :