Facebook Twitter Instagram YouTube

যৌতুক মামলায় ৮ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত স্বর্ণা রানী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৬, ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ /
যৌতুক মামলায় ৮ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত স্বর্ণা রানী

মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী স্বর্ণা রানী শীল। স্বামীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ৮ দিন কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুন হাসান খান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এই মামলায় স্বর্ণার মা প্রতিমা রাণী শীলও (৪৫) আসামি রয়েছেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ বিশ্বাস (৩৬) তার স্ত্রী স্বর্ণা রানী শীল ও শাশুড়ি প্রতিমা রাণী শীলের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ, স্বর্ণা ও তার মা ৫ লাখ টাকা, ১০ শতাংশ জমি এবং কয়েকটি আইফোন যৌতুক হিসেবে দাবি করেছিলেন।

গত ১২ আগস্ট স্বর্ণা ও তার মা প্রতিমা রাণী মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ আত্মসমর্পণ করেন। সেই সময় আদালত স্বর্ণার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও তার মা প্রতিমা রাণী জামিন পান। অবশেষে ৮ দিন কারাবাসের পর বৃহস্পতিবার স্বর্ণার পক্ষে করা নতুন জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার মৃত অমূল্য বিশ্বাসের ছেলে এবং স্বর্ণা শিবালয় উপজেলা সদরের দীপক কুমারের মেয়ে। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্বর্ণা তার স্বামী গৌরাঙ্গকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এরপর ওই দিন রাতেই ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে প্রতিমা রাণী ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় পরদিন স্বর্ণা তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান বলে গৌরাঙ্গ দাবি করেছেন।

গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের ভাষ্যমতে, তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তার অভিযোগ, স্ত্রী বিভিন্ন সময় অন্য ছেলেদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন এবং তার মা তাকে কুপরামর্শ দিতেন। তিনি স্ত্রীকে বিয়ের সময় তিন জোড়া কানের দুল, তিনটি আংটি, নূপুর, পায়ের আংটি, স্বর্ণের শাখা ও লকেটসহ চেইন উপহার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সোনালী ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র করার জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০ শতাংশ জমির দাবিতে স্বর্ণা প্রায়ই অশান্তি করতেন এবং সবার সামনে তাকে মারধর করতেন।

এদিকে, স্বামীর করা যৌতুক মামলায় স্ত্রীর কারাবাসের ঘটনাকে স্থানীয় সুশীল সমাজ ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জের সভাপতি প্রফেসর ইন্তাজ উদ্দিন বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং আদালতের এই আদেশ তার প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের আদেশ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh