Facebook Twitter Instagram YouTube

মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাতে ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে নতুন পরীক্ষা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ / ০
মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাতে ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে নতুন পরীক্ষা

আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি নেই—এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির অভাব মেটাতে ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মেঘের ভেতর রুপার একটি যৌগ ছড়িয়ে বরফের কণা তৈরির মাধ্যমে বৃষ্টি বা তুষারপাত ঘটানোর এই প্রক্রিয়ার নাম ক্লাউড সিডিং। মানুষের আকাশ থেকে বৃষ্টি নামানোর এই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নতুন প্রযুক্তির হাত ধরে আবারো সামনে এসেছে।

২৩ আগস্ট আলাস্কার হোমার শহরের বাসিন্দা কুপার ফ্রিম্যান জানতে পারেন যে, তার মাথার ওপরের মেঘে ‘রেইনমেকার’ নামের একটি স্টার্টআপ ক্লাউড সিডিং পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেগুন্দোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মাত্র তিন ঘণ্টায় তারা আকাশে ১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন গ্যালন পানির সৃষ্টি করেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ পানির হিসাবের বিপরীতে বাস্তব চিত্রটি হলো, ১০০ বর্গমাইল এলাকায় এই বৃষ্টি ছড়িয়ে দিলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ০.০১ ইঞ্চি। অর্থাৎ, এই প্রযুক্তি আকাশ থেকে নতুন জলভাণ্ডার তৈরি করে না, বরং প্রকৃতিতে বিদ্যমান মেঘ থেকে বৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে সামান্য ত্বরান্বিত করে মাত্র।

ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তির ইতিহাস ৮০ বছরের বেশি পুরোনো। সাধারণত উড়োজাহাজ বা ড্রোন ব্যবহার করে সিলভার আয়োডাইডের মতো যৌগ মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঠান্ডা মেঘে এই কণাগুলোকে কেন্দ্র করে বরফের স্ফটিক তৈরি হয়, যা পরে মাধ্যাকর্ষণের টানে বৃষ্টি বা তুষার হিসেবে নিচে নেমে আসে। তবে রেইনমেকারের প্রধান নির্বাহী অগাস্টাস ডোরিকো স্পষ্ট করেছেন যে, মেঘ ছাড়া এই প্রযুক্তি কাজ করে না। ফলে যেখানে মেঘ নেই, সেখানে ড্রোন পাঠিয়ে বৃষ্টি নামানো সম্ভব নয়, যা এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা।

এই পরীক্ষার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগে থেকে না জানানোয় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কুপার ফ্রিম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিলভার আয়োডাইডের মতো যৌগের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করার কোনো কার্যকর পর্যবেক্ষণ হয়েছে বলে মনে হয় না। তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি পানি সংরক্ষণের জরুরি সমস্যাগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মিঠা পানির সংকট বাড়ছে এবং প্রকৃতি তার স্বাভাবিক গতিতে তা পূরণ করতে পারছে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, গত পাঁচ বছর ছিল বৈশ্বিক নদীগুলোর জন্য সবচেয়ে শুষ্ক সময়গুলোর একটি। এই বাস্তবতায় ৫০টির বেশি দেশ এখন আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কর্মসূচি চালাচ্ছে।

১৯৪৬ সালে জেনারেল ইলেকট্রিকের গবেষকদের মাধ্যমে শুরু হওয়া ক্লাউড সিডিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পরও বড় কোনো বিপ্লব ঘটেনি। উটাহ ক্লাইমেট সেন্টারের সহকারী রাজ্য জলবায়ুবিদ জন মেয়ার জানান, অনুকূল পরিস্থিতিতে এটি মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। তবে ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় রাডার ও বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের মাধ্যমে সিলভার আয়োডাইডের কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর ড্রোন ব্যবহার করে এটিকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে রেইনমেকার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জর্ডানের মতো পানিসংকটপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করছে। পাশাপাশি, সিলভার আয়োডাইডের বিকল্প হিসেবে সান ফ্রান্সিসকোর রিকাস্ট সিস্টেমস অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে তৈরি প্রোটিন নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে, যা অধিকতর নিরাপদ ও জৈবভাবে অবক্ষয়যোগ্য বলে দাবি করা হয়েছে। ডোরিকোর দাবি, তাদের ব্যবহৃত ২০ গ্রাম সিলভার যৌগ হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যার ঘনত্ব যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে। তথাপি, প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা এখনো অনস্বীকার্য।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin