Facebook Twitter Instagram YouTube

রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ / ০
রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এবং ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান। রাসায়নিক অণুর 'মিরর ইমেজ' বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা এবং অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার ইফেক্ট ও অটোক্যাটালাইসিসের রহস্য উন্মোচনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

নোবেল কমিটির মতে, এই দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা এমন সব রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশার পথ প্রশস্ত করেছে, যা বিশেষ করে ওষুধশিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাসায়নিক অণুর ভিন্ন দর্পণ-রূপ মানবদেহে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে, তাই ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অণুর সুনির্দিষ্ট গঠন তৈরি করা অপরিহার্য। রসায়নে নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিংকে জানান, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটির উদ্ভব কীভাবে হয়, তা দীর্ঘ শত বছর ধরে বিজ্ঞানের রহস্য ছিল, যা কাগান ও সোয়াই সমাধান করেছেন।

গবেষণার ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান ১৯৮৬ সালে রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপ অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এই গবেষণায় আরও অগ্রগতি আনেন। ১৯৯৫ সালে তিনি নতুন বিক্রিয়া নকশা উপস্থাপন করেন এবং ২০০৩ সালে এমন একটি ব্যবস্থা দেখান, যেখানে দুটি সম্ভাব্য দর্পণ-রূপের মধ্যে শুধু একটিই তৈরি হয়। নোবেল কমিটির ভাষ্যমতে, জীবনের নিজস্ব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার বাইরে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি।

১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১৭ বার রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এবং মোট ১৯৮ জন ব্যক্তি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে 'মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস' উন্নয়নের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছিলেন সুসুম কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম. ইয়াঘি। পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ীদের ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের অর্থ প্রদান করা হয়, যা একাধিক বিজয়ীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din