
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, অনেকের কাছেই সংসদের চাইতে রাজপথ বেশি পছন্দের। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী ৩ দিন ধরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
জহির উদ্দিন স্বপন অভিযোগ করেন, পার্লামেন্টের ছোটখাট বিষয়কে রাজপথে এনে আরও উত্তপ্ত করার একটি প্রকল্প কেউ কেউ হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, সোশাল মিডিয়ায় নানা ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য একটি দূষিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী দাবি করেন, তারেক রহমান এবং তার সরকার এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল আচরণ এবং অভিভাবকের ভাষায় কথা বলার কারণেই তারা গঠনমূলক সমাধানের পথ খুঁজছেন। জনগণের দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব এবং শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই তাদের মূল কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশ গড়ার কাজে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের উৎপাতের পর্ব শেষ হয়েছে এবং এখন দেশ গড়ার পালা। তিনি বলেন, আন্দোলন কারো কারো জন্য পেশা হতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে এটি ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই। সরকার শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবে, তবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আঙ্গুল বাঁকা করার প্রয়োজন হলে সরকার তা করতে বাধ্য হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজার মাইল দূর থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সম্বল করেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন জাগ্রত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (এফজেইউ)-এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উপ-সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ভিআইপি মোটর্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাস্কর নাজম, বিপিজের সভাপতি কে এম মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার।
আপনার মতামত লিখুন :