
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এ সময়ে অনেকেই সাধারণ জ্বর আর ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝতে বিভ্রান্ত হন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার জ্বর থাকে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে কমে গিয়ে পুনরায় আসতেও পারে। তবে এসব উপসর্গ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।
এ ধরনের উপসর্গ থাকলে অ্যাসপিরিন বা অনুরূপ ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, ডেঙ্গুতে এসব ওষুধ সেবনে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকও খাওয়া উচিত নয়, কারণ ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে একাধিক ভাইরাস একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ রোগ শনাক্ত করতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই জ্বর হলেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া শুরু করেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। ভাইরাসজনিত বিভিন্ন জ্বরের উপসর্গে মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে জটিলতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন এবং মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
অন্যদিকে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুতে সাধারণত নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা যায়। সংক্রমণের দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ প্রকাশ পায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আপনার মতামত লিখুন :