Facebook Twitter Instagram YouTube

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ /
জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জ্বর এবং ডেঙ্গু জ্বরের মধ্যে পার্থক্য বুঝে সচেতনতার সঙ্গে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করাই যথেষ্ট। তবে জ্বরের পাশাপাশি তীব্র মাথা ব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা এবং ত্বকে রেশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ কিনে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি শিশুদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের জ্বর হলে ডাবের পানি ও শরবতসহ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে। এছাড়া বাইরে বের হওয়ার সময় শিশুদের ফুলপ্যান্ট, ফুলহাতা শার্ট ও মোজা পরানোর মাধ্যমে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী জানান, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। ভয়ের কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী সতর্ক করে বলেছেন, ডেনভ-৩ সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ করতে পারে। তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দেন।

বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এডিস মশার স্বভাব সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন, এই মশা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে বেশি থাকে। এরা স্বচ্ছ ও অল্প গভীর পানিতে ডিম পাড়ে, তাই ফুলের টব, বারান্দার পাত্র বা টায়ারে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। এছাড়া সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় এডিস মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুধুমাত্র কীটনাশক প্রয়োগ করে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকর ও মূল উদ্যোগ নিতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হলো সতর্কতা, জনসচেতনতা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin