Facebook Twitter Instagram YouTube

তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ রাজধানীর বহু পাম্প, চরম বিপাকে সিএনজি চালকরা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ /
তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ রাজধানীর বহু পাম্প, চরম বিপাকে সিএনজি চালকরা

রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। প্রতিদিন জ্বালানি সংগ্রহের পেছনেই তাদের দিনের বড় একটি অংশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না, আবার কাউকে কাউকে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে, অন্যদিকে গাড়ির মালিকের নির্ধারিত জমার টাকা তুলতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চালকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের অনেকেই চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। মিরপুর ১২ নম্বরের ইনট্রাকো ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজি চালক আলমগীর জানান, আগের দিন তিনি মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। সেই গ্যাস দিয়ে তিনি এক হাজার টাকা ভাড়া মারলেও গাড়ির মালিকের জমা দিতে হবে ১২০০ টাকা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'মালিকই খাবে কী, আর আমিই খামু কী।' একই স্টেশনে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ৪০-৫০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন রাজু মিয়া নামের আরেক চালক। অন্যদিকে, ১৬০ টাকার গ্যাস নিয়ে কোনোমতে দুটি ট্রিপ মারতে পারবেন বলে জানান মুন্না নামের এক প্রাইভেটকার চালক।

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন গ্যাস না থাকায় বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্প খোলা আছে, সেগুলোতেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আব্দুল্লাহপুরের পূর্ব পাশের খন্দকার ফিলিং স্টেশনের অপারেটর মনির জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না, যার কারণে পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই এলাকার পশ্চিম পাশের আরএসআর ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী জানে আলম জানান, ৫-৬ দিন ধরে এই সমস্যা চলছে। দুপুরের দিকে কিছুক্ষণ গ্যাসের চাপ থাকলেও পরে তা চলে যায়। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৯-এর ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিম জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার পাম্পগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ডেমরার রাসেল ফিলিং স্টেশনে চারটি হোসের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে। মীরপাড়া এলাকার হাজী ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মাত্র একটি হোস পাইপ দিয়ে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরায় গ্যাস নিতে আসা সিএনজি চালক মো. সারোয়ার আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা কি পরিবারসহ না খেয়ে মরব?'

মহাখালী, তেজগাঁও ও কাওরান বাজার এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দুপুরের পর যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আরজতপাড়ার ইউরেকা, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের এবিএন, রয়েল, ইসা গার্ডেন, ক্লিন ক্লেয়ার, নাবিস্কোর সাউদার্ন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণির সিটি, অল-ইন-ওয়ান এবং কাওরান বাজারের কানাডা-বাংলা সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। সাতরাস্তা মোড়ের সুপরিচিত আকিজ সিএনজি স্টেশনটি গ্যাসের অভাবে গত ৪-৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ইউরেকা ফিলিং স্টেশনে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন মিরপুরের অটোরিকশা চালক রানা। মহাখালীর এবিএন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শহীদুল জানান, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে কিছুক্ষণ পর পরই সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া মালিবাগ হাজীপাড়া, মুগদা বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি, আরকে মিশন রোডের এন.এস. সিএনজি এবং মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ সবুজবাগ, বনশ্রী, খিলগাঁও ও গোড়ান এলাকার পাম্পগুলোতেও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা গেছে। কোথাও সীমিত পরিসরে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চালকরা।

মিরপুর ১২ নম্বর ইনট্রাকো ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক মুন্না বলেন, ১৬০ টাকার গ্যাস ভরেছি। এই গ্যাস দিয়ে কী হবে। বড় জোর ২ ট্রিপ মারা যাবে। গত কয়েক দিন ২-৩ বার পাম্পে আসতে হয়েছে। আজও আসা লাগবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor