
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ইনামুল মোল্লা (২৬) নামের এক স্থানীয় জামায়াত নেতাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দলটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ইনামুল বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।
ইনামুল মোল্লা বোয়ালমারী পৌরসভার কুশাডাঙ্গা গ্রামের মো. আকরাম মোল্যার ছেলে। দলীয় পদের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বোয়ালমারী বাজারের 'মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতাল'-এ অভ্যর্থনাকারী (রিসেপশনিস্ট) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুশাডাঙ্গা গ্রামের কুটিপাড়া এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইনামুলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ইনামুল মোল্লার কর্মস্থল মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতালের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম জানান, দুই দিন আগে ওই নারীর প্রবাসী স্বামী বিদেশ থেকে তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি ইনামুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চান। তবে রেজাউল করিম তাকে জানান যে, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠায় ইনামুল মোল্লাকে প্রাথমিকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ওই নারীর সঙ্গে ইনামুলের মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি তারা শুনেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইনামুল মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি কর্মস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি কেবল একটি অভিযোগ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা মিললে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :