Facebook Twitter Instagram YouTube

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা তথ্য নিয়ে অসংগতি, সংশোধনের তাগাদা ঢাকার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৮, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ /
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা তথ্য নিয়ে অসংগতি, সংশোধনের তাগাদা ঢাকার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্যের অনেকগুলোই ভুল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই অসংগতি দূর করে জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত সঠিক তথ্য ব্যবহারের জন্য মিয়ানমারকে তাগাদা দিয়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোর সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (মিয়ানমার অনুবিভাগ) মো. তৌফিক-উর-রহমান।

গত শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছিল, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা তারা যাচাই করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন বাসিন্দা। এছাড়া ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তারা উল্লেখ করে। একই সঙ্গে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টিও মিয়ানমার অস্বীকার করেছে।

আজকের বৈঠকে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর নতুন আসা রোহিঙ্গাদের তথ্যও যাচাইয়ের অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ বর্তমানে তাদের নিবন্ধনের কাজ করছে এবং তালিকার পরবর্তী রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিনিময় করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়, কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় দীর্ঘদিন ধরেই স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সো মো বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো তার সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান পুনরায় উল্লেখ করেন যে, এই সংকটের টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের মধ্যেই। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের মুখে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, যাদের মধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo