Facebook Twitter Instagram YouTube

ভারত সফরের আগে হাসিনাকে ফেরতসহ ঢাকার কঠিন শর্ত, স্থগিত তারেক রহমানের সফর


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ /
ভারত সফরের আগে হাসিনাকে ফেরতসহ ঢাকার কঠিন শর্ত, স্থগিত তারেক রহমানের সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সফরের ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের দেওয়া কয়েকটি কঠিন শর্তের কারণে এই সফরটি হচ্ছে না। ভারতের পক্ষ থেকে যখন এই সফর আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, তখন ঢাকার দেওয়া এসব শর্ত দিল্লির কাছে বেশ বিস্ময় তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতকে প্রথমে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ঢাকা সেই সম্মেলনে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে দ্বিপক্ষীয় সফরের ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশের এই অবস্থানের পর ভারত তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়ে চলতি আগস্ট মাসেই একটি দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

কিন্তু এর মধ্যেই ভারতের দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রেস ব্রিফিংকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বদলে যায়। সেখানে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য ঢাকাকে ক্ষুব্ধ করে এবং বাংলাদেশ এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়, যাকে অনেকেই নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

এই ঘটনার কয়েক দিন পর, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর ওই দিনই তিনি দিল্লির উদ্দেশে উড়াল দেন। এর পরদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক একান্ত (ওয়ান টু ওয়ান) বৈঠকে বাংলাদেশের মনোভাব তুলে ধরেন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। পরবর্তীতে দিল্লির নির্দেশনা নিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে আসার পর দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি আবার গতি পায় এবং দুই দেশের গণমাধ্যমে সম্ভাব্য তারিখও প্রকাশ হতে থাকে।

তবে গত রোববার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে দৃশ্যপট আবার বদলে যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক লিখিত বক্তব্যে জানান, ভারত সফরের আগে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্ত ভারতের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ঢাকা এখন দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো শর্তগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো—দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। আর দ্বিতীয় শর্তটি হলো—শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা। এই শর্তগুলোর ওপরই এখন ঝুলে রয়েছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক সফর।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor