
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) মো. খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদকে দেশের পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক পদে নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জারি করা এক আদেশে কমিশন জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও গাফিলতির দায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২০ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারির দিন থেকেই খায়রুল বাশার দেশের সব স্টক এক্সচেঞ্জ, বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিএসইসির নিয়ন্ত্রিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
কমিশন সূত্র জানায়, ডিএসইর সিআরও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মশিহর সিকিউরিটিজসহ বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত পরিদর্শনের অভাবে এসব অনিয়ম দীর্ঘ সময় ধরে আড়ালে ছিল। বিএসইসির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, সময়মতো কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে মশিহর সিকিউরিটিজ কেলেঙ্কারির মতো ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাতের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যেত।
এছাড়া নজরদারির ঘাটতির কারণে বানকো সিকিউরিটিজ থেকে ১৩৬ কোটি ৮৪ লাখ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ থেকে ৬২ কোটি ৯৮ লাখ এবং তামহা সিকিউরিটিজ থেকে ৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পিএফআই সিকিউরিটিজ ও সিনহা সিকিউরিটিজেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ মে মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডসহ সাতটি ট্রেকধারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সিআরও খায়রুল বাশার ওই পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হন, যা প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করেছে কমিশন। মূলত পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :