ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে রোটেশন প্রথা চালু থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকা সত্ত্বেও এই নিয়মের কারণে প্রতিদিন সব লঞ্চ চলাচল করে না, যার ফলে কেবিন ও ডেক সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, মালিকপক্ষের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় এই রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে, যা জনস্বার্থকে উপেক্ষা করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লঞ্চ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালাল চক্র নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কেবিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনাও ঘটছে। চরফ্যাশনের বাসিন্দা মো. আলমাস জানান, পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে আসার সময় তাকে একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য ২ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে এবং সেটি পেতেও ভিআইপি ব্যক্তির মাধ্যমে তদবির করতে হয়েছে।
চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়া জানান, মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হলেও লঞ্চে জায়গা পাওয়া যায় না। ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়, যা রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ছুটির দিন বা জরুরি প্রয়োজনে এই ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বেতুয়া নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক পুতুল চন্দ্র রায় জানান, এই রুটে তাসরিফ, কর্ণফুলী ও টিপু কোম্পানির লঞ্চ চলাচলের অনুমতি রয়েছে। তবে লঞ্চ মালিকেরা যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে প্রতিদিন একটি বা দুটি লঞ্চ পরিচালনা করছেন। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উৎসবের সময় অবশ্য তিনটি লঞ্চই চলাচল করে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রোটেশন প্রথা বন্ধের দাবিতে অতীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবাদের মুখে মাঝেমধ্যে তা বন্ধ থাকলেও পরে আবারও চালু করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :