Facebook Twitter Instagram YouTube

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ /
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত “বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর” শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন এবং তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে গেলে সেবার মান বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সরকারের হাতে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা রাখা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাশের দেশগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানি সিটি অনুযায়ী বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকে। এই রূপান্তর রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাও হ্রাস করবে। তিনি ব্যবসায়ীদের বিতরণ সিস্টেমে বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান।

বিগত সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই শুধু আমদানিনির্ভর ছিল। কোনো গ্যাস কূপ খনন না করায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মাত্র দুটি এফএসআরইউ স্থাপন করা হয়েছে, যার একটিতে গতকাল আগুন লেগেছে। এলএনজি বোঝাই জাহাজ কাছে না থাকায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ গ্যাস ও সিএনজি সংকটে ভুগছে এবং অনেক জায়গায় মানুষ সড়ক অবরোধ করছে, যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

খুলনার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে গ্যাস সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কেন্দ্রটি এখন মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ২৮ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হলেও জ্বালানি অনুসন্ধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় গ্যাস না পাওয়ায় উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যা বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিল রয়েছে এবং চলতি বিলের সঙ্গে তা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকার ব্যাংক খালি করে রেখে গেছে এবং লুটপাট হয়েছে, যা ফেরৎ দিতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ১ হাজার ডায়ালাইসিস মেশিন আনা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে এবং সোলার স্থাপনায় কর ছাড় দেওয়া হবে। ছাদে সৌর প্যানেল বসানো গ্রাহকদের ট্যাক্স রিবেট ও হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চীনা কোম্পানির আগ্রহ রয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া শিল্পায়ন অসম্ভব বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট না কাটলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। অনুষ্ঠানে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, আইডিকেলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অন্তর্বর্তীকালীন) মো. এনামুল হক এবং বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin