Facebook Twitter Instagram YouTube

২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন দাখিল শুরু, মিলবে বিশেষ প্রণোদনা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ /
২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন দাখিল শুরু, মিলবে বিশেষ প্রণোদনা

করসেবা সহজ, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ থেকে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। ২০২১ সালে অনলাইন পদ্ধতি চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিগত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করেছেন, যা করদাতাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।

আয়কর ব্যবস্থাকে শতভাগ ডিজিটালাইজড করার কৌশলগত অংশ হিসেবে এনবিআর সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, প্রবাসী বাংলাদেশি, মৃত করদাতার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা সনাতন পদ্ধতিতে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এছাড়া কারিগরি বা বায়োমেট্রিক সমস্যায় নিবন্ধন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অতিরিক্ত অথবা যুগ্মকর কমিশনারের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে ম্যানুয়াল রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকছে।

অনলাইন সিস্টেমের অন্যতম সুবিধা হলো ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে এবং তাৎক্ষণিক সনদ প্রাপ্তি। করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। রিটার্ন দাখিলের সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে অটোমেটেড উপায়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা সম্ভব। কোনো সমস্যার সমাধানে এনবিআর একটি শক্তিশালী কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) চালু করেছে, যেখানে কর্মকর্তারা সরাসরি কারিগরি ও আইনি পরামর্শ দিচ্ছেন।

সরকার করদাতাদের উৎসাহিত করতে চলতি করবর্ষে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অনলাইন রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় নিট করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের পর এই সুবিধা কার্যকর হবে না এবং ডিসেম্বর মাসের পর রিটার্ন দাখিল করলে আইনি ধারা অনুযায়ী বিলম্ব কর দিতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা ট্যাক্সসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফারুক হোসেন সার্ভার ক্যাপাসিটি উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের কর আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট এস. এম. রেজাউল করিম এই উদ্যোগকে দুর্নীতি ও হয়রানি কমানোর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া বারিস্টার আহমেদ তানভীর ব্যাংক ও এনআইডি ডাটাবেজের সাথে এনবিআরের অটোমেটেড সিঙ্ক নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh