Facebook Twitter Instagram YouTube

আপত্তি সত্ত্বেও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ /
আপত্তি সত্ত্বেও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

ঝিনাইদহে ভেঙে ফেলা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শহীদ পরিবার এবং বিভিন্ন বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ভাস্কর্যটি স্থানান্তরের জন্য একটি স্থানীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভাস্কর্য স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির জেলা সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রবীন্দ্রনাথ রায়। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু এবং বাসদের জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম আসাদও সভায় অংশ নেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর এবং ভাস্কর্য স্থাপনের নতুন জায়গা নির্ধারণের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও, শহীদ পরিবারসহ সিপিবি, বাসদ, ক্ষেতমজুর সমিতি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও যুব ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন।

এ বিষয়ে সিপিবি ঝিনাইদহ জেলা সম্পাদক আবু তোয়াব অপু বলেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্থাপনা ভেঙে ফেলা ও প্রশাসন কর্তৃক সরিয়ে ফেলার কাজ বাস্তবায়নে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর এবং ভাস্কর্য স্থাপনের জায়গা নির্ধারণের জন্য সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। যখন সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি, তখন দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলার ধারাবাহিকতা। এটা অগ্রহণযোগ্য।"

বাসদের জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, বর্তমান স্থানটিকে ত্রুটিমুক্ত ও ঝুঁকিমুক্ত করে সেখানেই ভাস্কর্য ও চত্বরটি পুনরায় স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভেঙে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসনকে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটা আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য। এটি ভেঙে ফেলে ধ্বংসাত্মক কাজ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা চাই, যথাযথভাবে ও মর্যাদায় ভাস্কর্যটি সংস্কার করে একই স্থানে পুনঃস্থাপন করা হোক।"

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin