
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশে মবের শাসনের পরিবর্তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতি আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিচারবিভাগের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো নির্বাচিত সরকারই মবতন্ত্রের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।
সাইফুল হক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা গড়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বিচারবিভাগের গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি নির্বাহী বিভাগ, বিচারবিভাগ ও সংসদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিগত সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে এবং বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিচারবিভাগ নিয়ন্ত্রণের কোনো অপচেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। বিচারবিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হলে সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আলোচনা সভায় গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর যে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন হোঁচট খাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বিচারবিভাগের সচিবালয় গুটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, এটি ভালো বার্তা দেয় না। সরকার-সমর্থকরা যদি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে। এছাড়া, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনগুলো একতরফাভাবে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি অতীতের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :