Facebook Twitter Instagram YouTube

গাজায় নিরস্ত্রীকরণে হামাসের নীতিগত সম্মতি, আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ /
গাজায় নিরস্ত্রীকরণে হামাসের নীতিগত সম্মতি, আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

গাজায় পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের পরিকল্পনায় নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। সংগঠনটির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খুব শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিবিসির হাতে আসা পরিকল্পনার লিখিত খসড়ায় নিরস্ত্রীকরণের ধাপসমূহ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার বিশদ বিবরণ রয়েছে। হামাসের শীর্ষ নেতারা এএফপিকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সংগঠনের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমে সরে যাওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, অস্ত্রসংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, হামাসসহ গাজায় সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণে বোর্ড অব পিস একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের মতে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের পথ সুগম করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি সুপরিকল্পিত ধাপে সম্পন্ন হবে। কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী নবগঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিশর, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।

দীর্ঘদিন ধরেই হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। এদিকে, গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি বৈঠক মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এতে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy