
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর, হুতিদের এই নতুন হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও হুতিরা এখনো তাদের ঘোষিত অবরোধ কার্যকর করেনি, তবে তাদের হুমকির কারণে অনেক জাহাজ লোহিত সাগর ছেড়ে দক্ষিণমুখী যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ হলে ইরানকে ঘিরে নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট তৈরি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হস্তক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার মার্কিন সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ইউরোপে সৌদি আরবের ডিজেল রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।
চলতি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারের বেশি বেড়েছে। বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা জুনের শুরু থেকে সর্বোচ্চ। আরবিকি ক্যাপিটাল মার্কেটসের হেলিমা ক্রফটের মতে, সৌদি আরব বর্তমানে তাদের বিশাল ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। এই পথ অচল হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ সংকট চরম আকার ধারণ করবে। পিকারিং এনার্জি পার্টনারসের ড্যান পিকারিংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাব আল-মান্দেব পুরোপুরি অবরুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও ৫ থেকে ১০ ডলার বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যারা তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তারা এই সরবরাহ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের অ্যান্ডি লিপোভ জানিয়েছেন, ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল বাব আল-মান্দেব হয়ে রপ্তানি হয়। এছাড়া সৌদি শোধনাগারগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ডিজেল ইউরোপে যায়, যা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত মঙ্গলবার অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। এদিকে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিরা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে; জুন মাসে যেখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০টি জাহাজ চলত, এখন তা হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজে নেমে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :