
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান উত্তাল বিক্ষোভের মধ্যে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা ও শিক্ষাসচিব বিনীত জোশিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নরেশ গাঙ্গোয়ারকে। বিনীত জোশিকে এখন পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে মোট ১৩টি নতুন নিয়োগ এবং চারটি ইন-সিটু পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই রদবদলে গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব টি.কে. অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মোদি জানান, শুক্রবার এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং আগামী সপ্তাহেই সংসদে একটি বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের টানা আন্দোলনের বড় ভূমিকা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উদাসীনতা দেখানোর কারণেই শিক্ষাসচিবকে সরানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিংবা অবহেলা দেখিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এটি ‘মোদির গ্যারান্টি’।
আপনার মতামত লিখুন :