
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদ যেন পুনরায় পুনর্বাসিত না হয় এবং আমরা নিজেরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, নীরবে-নিভৃতে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির মানুষকে স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশাপাশি তিন বছর ধরে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদেরও এই প্রতিভা বিকাশের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, অন্ধকে আলো দেওয়ার মতো মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় মাত্র ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংসতায় প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা কিংবা মাথা হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যার ফলে অনেকের ভাই, বোন, মা বা স্বামী আজও নিখোঁজ।
যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান বলেন, আপনারা যেখানেই থাকুন, চোখ খুলুন। তিনি বলেন, আমরা যদি কোনো অপরাধ করি, তবে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব হলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দেওয়া। ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।
আপনার মতামত লিখুন :