Facebook Twitter Instagram YouTube

সীতাকুণ্ডের শিল্পবর্জ্যে হুমকির মুখে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৬, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ /
সীতাকুণ্ডের শিল্পবর্জ্যে হুমকির মুখে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য

দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল সীতাকুণ্ডে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, বিভিন্ন শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, জাহাজভাঙা শিল্পের অবশিষ্টাংশ এবং উপকূলীয় এলাকার প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি সাগরে মিশে সামুদ্রিক মাছ, জীববৈচিত্র্য ও সামগ্রিক উপকূলীয় পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও পরিবেশবিদ ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, শিল্পাঞ্চলের কারখানা ও জাহাজভাঙা শিল্পের বর্জ্য সাগরে পড়ার ফলে পানির স্বাভাবিক গুণগত মান পরিবর্তিত হচ্ছে। পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা মাছসহ জলজ প্রাণীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, সাগরে মাছ ডিম ছাড়ার সময় ঢেউয়ের টানে অনেক ডিম উপকূলীয় এলাকায় চলে আসে। সেখানে দূষিত পানি ও ক্ষতিকর উপাদানের কারণে ডিম থেকে জন্ম নেওয়া অনেক ছোট মাছ মারা যাচ্ছে, যা মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। এছাড়া এই দূষিত পরিবেশে বেঁচে থাকা মাছ মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, আগে সীতাকুণ্ড উপকূলে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে জাল ফেললে মাছের পরিবর্তে পলিথিন, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য উঠে আসছে। তাদের অভিযোগ, কিছু কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ও প্লাস্টিক খাল-নালা দিয়ে সরাসরি সাগরে মিশছে, যা তাদের জীবন-জীবিকাকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পরিবেশ ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মো. সাইদুর রহমান বলেন, সমুদ্র দূষণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে বর্জ্য সাগরে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবিদরা সীতাকুণ্ড উপকূল রক্ষায় শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি কার্যকর রাখা, নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা এবং দূষণের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, জেলে সম্প্রদায় ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব নয়।

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৫৩আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ০১

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh