Facebook Twitter Instagram YouTube

সকালের বরকত ও রিজিক লাভে ইসলামের নির্দেশনা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৮, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ /
সকালের বরকত ও রিজিক লাভে ইসলামের নির্দেশনা

ইসলামি জীবনদর্শনে সকালের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইশার নামাজের পর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া এবং ফজরের নামাজের মাধ্যমে দিন শুরু করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। প্রকৃত মুমিনগণ ফজরের নামাজের মাধ্যমে তাদের দিনের সূচনা করেন, যেখানে মুনাফিকদের জন্য এই নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ভারী মনে হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছেন যে, মুনাফিকদের ওপর ফজর ও ইশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী নামাজ আর নেই। যদি তারা এই দুই নামাজের ফজিলত সম্পর্কে অবগত থাকত, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাতে উপস্থিত হতো (বোখারি: ৬২৪)।

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের পর কাজে ছড়িয়ে পড়লে জীবনে রহমত ও বরকত নেমে আসে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত রিজিক লাভের পথ প্রশস্ত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কেবল ধর্মীয় নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালের বরকতের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছেন। সাখর গামিদী (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলতেন, 'হে আল্লাহ, তুমি আমার উম্মতের জন্য ভোরের মধ্যে বরকত দান করো।' সাখর (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, যিনি এই সুন্নাহ অনুসরণ করে তার ব্যবসায়িক কাফেলাকে দিনের শুরুতেই পাঠাতেন, যার ফলে তিনি প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন (তিরমিজি: ১২১২)।

সকালবেলা অলসতা করে ঘুমিয়ে থাকা জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যারা প্রভাতে ঘুম থেকে ওঠে না, তারা বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভোগে এবং তাদের কাজের সজীবতা নষ্ট হয়। এছাড়া, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অলসতা রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে। একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) ফাতেমা (রা.)-এর কাছে গিয়ে তাকে প্রভাত-নিদ্রায় শায়িত দেখে জাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'হে কন্যা, উঠো, তোমার প্রভুর রিজিক বণ্টনের সময় তুমি উপস্থিত থাক। আর গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।' হাদিসে এসেছে, মহান আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মানুষের রিজিক বণ্টন করে থাকেন (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ২৬২৭)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh