
রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার পর তাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এই পরোয়ানার ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু। এছাড়া হাসানুল হক ইনু অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন এবং আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যা এবং ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতের ঘটনা এই মামলার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া রাশেদুল ইসলাম ও আবু ইউসুফসহ অনেককে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশন এসব ঘটনাকে গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়নমূলক মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :