
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীতে বক্তারা জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একটি বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডিন ও আয়োজক কমিটির সদস্য ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ।
অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, জুলাই আন্দোলনের গুরুতর আহত যোদ্ধার বাবা অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া আজিজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং এটি সমগ্র জনগণের আন্দোলনের ফসল। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্যাতন ও গণহত্যার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, যারা অতীতে দৃশ্যমান অন্যায় করেছেন, তাদের কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচিত নয়। অন্যায়কারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানানো হয় সভায়।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত অনৈতিকভাবে চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সততার মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সাথে পালনের মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডিন ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। তিনি বিগত সরকারের ভয়াবহ নিপীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, জুলাইয়ের অনুভূতিকে ধারণ করেই সামনের দিনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। এছাড়া উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :