Facebook Twitter Instagram YouTube

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ গ্রেপ্তার


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ /
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ গ্রেপ্তার

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির হত্যাচেষ্টার মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কলিমউল্লাহ নিজের বক্তব্যের সপক্ষে দাবি করেন, তিনি জুলাই আন্দোলনে কোনো বিপক্ষ অবস্থান নেননি। তিনি বলেন, ‘আমিই আবু সাঈদের হত্যার প্রথম প্রতিবাদ করেছি। আমিই প্রতিবাদ জানিয়েছি সবার আগে। এটা রেকর্ড আছে। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও বিপক্ষ অবস্থান করিনি। আমি আন্দোলন সমর্থন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের সময় সেখানে আমার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দায়িত্ব ছিল এবং তিনি কেবল যা দেখেছেন তা-ই বলেছেন, এর আগে-পরের ঘটনা সম্পর্কে তাঁর জানার কথা নয়। বিচারক এ সময় তাঁর লেখা প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ অক্টোবর ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মামলাটি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন রবীন্দ্রসরণি রোড এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে বাদী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির গুলিবিদ্ধ হন এবং সেখান থেকে তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়।

২৮ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সাঈদ এই মামলায় কলিমউল্লাহর জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে দাবি করেন, কলিমউল্লাহ শেখ হাসিনার একজন সুবিধাভোগী এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর অন্যতম কারিগর এই কুশীলব বুদ্ধিজীবী।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল রশীদ গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে বলেন, কলিমউল্লাহ একজন অধ্যাপক এবং শিক্ষকতা তাঁর কাজ। তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে জামিনের ৩০ ঘণ্টা পর আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আসছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার এক বছর পর শোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারেন না আদালত।’ উল্লেখ্য, কলিমউল্লাহ ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে অন্য একটি মামলায় কারাবন্দী আছেন। এদিন কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo