Facebook Twitter Instagram YouTube

বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি: এফবিআইয়ের ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে চাঞ্চল্য


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৮, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ /
বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি: এফবিআইয়ের ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে চাঞ্চল্য

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তার যে নাজুক চিত্র ছিল, তা এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের (আইপিসিসি) গোপন নথির একটি অংশ ফাঁস হওয়ার পর জানা গেছে, অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিরা প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন। স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী চ্যানেলের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, তিনি এবং তাঁর দুই সঙ্গী হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সন্ত্রাসীর মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি। এছাড়া মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী হুমকি দিয়েছিলেন যে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে গিয়ে নিজের শরীরে চারটা বোমা বেঁধে তিনি মেসিকে উড়িয়ে দেবেন। এমনকি ম্যাচ চলাকালেও স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা থাকার গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার ফলে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও কুকুর দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয়।

নিরাপত্তাজনিত এই আতঙ্কে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী রোনালদোর নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ জানানোর পর, ১৬ জুন হিউস্টনের হোটেল থেকে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া টরন্টোতে লিফটে রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টায় এক ভক্তকে আটক করা হয় এবং মায়ামিতেও তাঁকে ঘিরে ধরার চেষ্টা চলে। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে এক দর্শক মাঠেই ঢুকে পড়েছিলেন।

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ছাড়াও মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে হুমকির ঘটনা ছিল নিয়মিত। কিলিয়ান এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় এবং ৫ ও ৬ জুলাই তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়। এছাড়া আলেকজান্ডার সরলথ, জামিনটন ক্যাম্পাজ এবং লুকাস দিনিয়েও মাঠের ভুলের কারণে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া দল প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মাইওং-বো ও পুরো দল পুলিশ প্রহরায় বিমানবন্দর পর্যন্ত গিয়েছিলেন।

সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া ব্যক্তি ছিলেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়, যার অধিকাংশই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের। ভিএআর দায়িত্বে থাকা উইলি দেলাজোদকেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের জন্য কঠোর পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo