Facebook Twitter Instagram YouTube

সাড়ে ছয় বছরে বাইক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৮, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ /
সাড়ে ছয় বছরে বাইক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২

দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার ৭১২ জন। এ ছাড়া এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর এক সমীক্ষায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সময়কালে সংঘটিত মোট ১৬ হাজার ৬৫টি বাইক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৫৪৮টি এবং ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে ৬ হাজার ৩১৪টি দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণে আরও ৭০৬টি বাইক দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঘটনার জন্য পণ্যবাহী যানবাহন (যেমন ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরি ইত্যাদি) দায়ী। এ ছাড়া এককভাবে মোটরসাইকেল চালক দায়ী ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে, বাসের চালক দায়ী ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় এবং থ্রি-হুইলার দায়ী ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঘটনায়। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের কারণে ২ দশমিক ৭২ শতাংশ, পথচারীদের কারণে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং বাইসাইকেল ও রিকশার কারণে দশমিক ৭৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল, যার একটি বড় অংশ চালায় কিশোর ও যুবকেরা। তাদের মধ্যে বেপরোয়াভাবে গতি বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও ভঙ্গিও যুবসমাজকে অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে প্ররোচিত করছে, যা তাদের রোমাঞ্চের খোঁজে দুর্ঘটনা ডেকে আনছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশেরই বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সমীক্ষা মতে, চার চাকার যানবাহনের চেয়ে মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে দেশে উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহন ব্যবস্থার অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে মানুষ নিরুপায় হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ বাহনটি বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের একটি বড় অংশ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় তারাও বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। প্রাণহানি বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা। অথচ ভালো মানের হেলমেট ব্যবহারে দুর্ঘটনার মৃত্যু ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে আধুনিক নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির সংযোজন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনের ভাষা পরিবর্তন, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সর্বসাধারণের জন্য সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin