Facebook Twitter Instagram YouTube

দিল্লিতে শেখ হাসিনার মতবিনিময় ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৮, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ /
দিল্লিতে শেখ হাসিনার মতবিনিময় ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপীয় সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার গঠনের শুরু থেকেই ঢাকা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা দিয়ে আসছিল, কিন্তু গত বুধবারের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন সেই প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ও দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে ঢাকার নীতিনির্ধারকদের যোগাযোগ হয়েছিল। তখন ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি সীমিত থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি। গত ৩০ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ এর এক সপ্তাহের মধ্যেই এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাকে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপনের দিনে এই অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা ও শহীদদের প্রতি অপমান হিসেবে দেখছে সরকার।

পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ওই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা সমর্থন বা অনুমোদন করে না। তবে মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, ভারত তাতে সাড়া না দেওয়ায় দুই দেশের মধে৵ আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, ঢাকা এই ঘটনাকে ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনাকে প্রশ্রয় দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেই দেখবে।

ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও এ বিষয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এদিকে, ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা এবং বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা নিয়ে ঢাকার নীতিনির্ধারণী মহলে বিরক্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, শেখ হাসিনা যেন দিল্লিতে বসে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে না পারেন, সে ব্যাপারে ভারতকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ঢাকার কূটনীতিকরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo