
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব লিভারপুল ছেড়ে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে নাম লিখিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ। তুর্কি এই ক্লাবের সঙ্গে তিনি দুই বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী সালাহর এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ। তুরস্কের ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ গালাতাসারাই, ফেনেরবাচে বা বেসিকতাসের সমর্থক হওয়ায় ত্রাবজোনস্পোর দেশটির শীর্ষ জনপ্রিয় ক্লাবের তালিকায় নেই। এছাড়া নতুন মৌসুমে দলটি সরাসরি ইউরোপা লিগে খেলার সুযোগ পায়নি, তাদের বাছাইপর্ব পার হতে হবে।
লিভারপুল ছেড়ে আসার পর থেকেই সালাহর গন্তব্য নিয়ে জল্পনা ছিল। সৌদি আরবের ক্লাবগুলো তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল, বিশেষ করে ২০২৩ সালে আল ইত্তিহাদ তাকে ১৫ কোটি পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সালাহ এমন একটি গন্তব্য বেছে নিয়েছেন যেখানে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলার সুযোগ রয়েছে। ৩৪ বছর বয়সে স্পেন বা ইতালিতে গেলে তাকে বেতনের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দিতে হতো, যা ত্রাবজোনস্পোরে করতে হয়নি। ইএসপিএনের তথ্যমতে, এই দুই বছরের চুক্তিতে তিনি মৌসুমপ্রতি প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো আয় করবেন। এছাড়া ক্লাবের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তার নামে বিক্রি হওয়া পণ্যের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ এবং পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাসও থাকছে।
মাঠের বাইরের জীবনও সালাহর এই সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। তুরস্কের কৃষ্ণসাগর উপকূলের শহর ত্রাবজোনে বসবাসের ফলে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ইউরোপেই থাকতে পারছেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখান থেকে মিশরে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র দুই ঘণ্টা। এছাড়া তুরস্কের করব্যবস্থা বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বেশ সুবিধাজনক। লিভারপুলের ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত সালাহ এখন ত্রাবজোনে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। ক্লাবটি সাতবার লিগ জিতলেও গত ৪২ বছরে জিতেছে মাত্র একবার (২০২১-২২ মৌসুমে), তাই নতুন গন্তব্যে সালাহর সামনে রয়েছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট।
তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে যিনি দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছেন, তার জন্য এক বছর পরই লিভারপুল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা সহজ নয়।
ম্যারাডোনা-ফর্মুলা: ৯ বছরে ২৫৭ গোল, প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ প্রায় সব বড় শিরোপা- লিভারপুল ইতিহাসের ‘কিংবদন্তি’ হিসেবেই ক্লাব ছেড়েছেন সালাহ।
আপনার মতামত লিখুন :