Facebook Twitter Instagram YouTube

টেকসই গণতন্ত্রে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি: মির্জা ফখরুল


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৭, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ /
টেকসই গণতন্ত্রে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি: মির্জা ফখরুল

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল নির্বাচন আয়োজন বা সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক চর্চা ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতি। নিয়মভিত্তিক এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে এবং মানুষের রাজনৈতিক চর্চা ও আচরণের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপস্থিতি প্রয়োজন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকেনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়া তা ধরে রাখার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সময় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই পদত্যাগের দাবি তোলা বা সরকারকে ব্যর্থ ঘোষণা করা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান সংসদ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত; রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি বা মব তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা। অন্যের মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত না করলে টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে, তবে সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক বাস্তবতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পথে বড় বাধা। অনেক মালিক ব্যবসায়িক কারণে সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকায় সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশে সংকোচ তৈরি হয়।

বর্তমান সরকারের সময় সাংবাদিকদের আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনেক সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতি এবং চাকরির নিরাপত্তা না থাকার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি কঠিন রূপান্তরকালীন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে এবং রাতারাতি সব সংকট দূর করা সম্ভব নয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং খাতের সংকট সমাধানে সময় প্রয়োজন। সরকার, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলসহ সমাজের সব অংশকে ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh