Facebook Twitter Instagram YouTube

গানের সুর খাবারের স্বাদ বাড়ায়, দাবি বিজ্ঞানীদের


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ / ০
গানের সুর খাবারের স্বাদ বাড়ায়, দাবি বিজ্ঞানীদের

খাবার খাওয়ার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে পছন্দের গান বাজলে কি খাবারের স্বাদ বেড়ে যায়? যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে থাকা এই কৌতূহলের এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া গেছে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সংগীত এবং স্বাদের মধ্যকার জৈবিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্কের প্রমাণ পেয়েছেন, যা গত জুনে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, স্বাদ কেবল জিহ্বার কোনো গুণ নয়, বরং এটি মস্তিষ্ক দ্বারা তৈরি একটি অনুভূতি।

গবেষণায় ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন, যাদের নিউরো-ইমেজিং বা মস্তিষ্কের স্ক্যান ডেটা সংগ্রহ করা হয়। এফএমআরআই স্ক্যান করে দেখা গেছে, মানুষ যখন শুধু স্বাদ নেওয়ার চেয়ে সংগীত শোনার সঙ্গে কোনো খাবার বা দ্রবণ গ্রহণ করে, তখন মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল অনেক জোরালোভাবে সাড়া দেয়। অর্থাৎ, সংগীত মস্তিষ্কের ভেতরে স্বাদ গ্রহণের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণাটি তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়। ১.

এখানে মোট চারটি ভিন্ন মিশ্রণ বা কম্বিনেশন পরীক্ষা করা হয়। ২. মিউজিক ওনলি ও টেস্ট ওনলি টাস্ক: এ প্রক্রিয়ায় শুধু সংগীত শুনিয়ে এবং আলাদাভাবে স্বাদের দ্রবণ খাইয়ে মস্তিষ্কের পৃথক প্রতিক্রিয়া মাপা হয়। ৩. গবেষণায় অডিটরি স্টিমুলি, টেস্ট স্টিমুলি, এমআরআই, এফএমআরআই, গাস্টোমিটার ও নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

আচরণগত ফলাফলে দেখা গেছে, মিষ্টি সংগীত শোনার সময় পরীক্ষামূলক দ্রবণগুলোর স্বাদ অংশগ্রহণকারীদের কাছে অনেক বেশি প্রীতিকর মনে হয়েছে। গবেষকদের ভাষ্যমতে, সঠিক সংগীত মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা পরোক্ষভাবে খাবারের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে।

এই গবেষণার ফলাফল কেবল রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেগুলোতে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতেই নয়, বরং হাসপাতাল বা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। যেসব রোগীর খাওয়ার রুচি বা স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে, তাদের অনুকূল সংগীত পরিবেশন করে পুষ্টি গ্রহণ উন্নত করা সম্ভব। খাবারে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান না বাড়িয়েই শুধু সঠিক শব্দের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে খাদ্যের স্বাদ ও মিষ্টির অনুভূতি বাড়িয়ে তোলা সম্ভব বলে গবেষকরা মনে করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo